এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এপ্রিল মাসের বেতন অনুমোদন: চলতি সপ্তাহেই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে অর্থ!
বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের বেতনের প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করা হয়েছে। গত ১০ মে ২০২৬ (রবিবার) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। অনুমোদনের মূল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ায় এখন কেবল অর্থ ছাড়ের আনুষ্ঠানিকতা বাকি, যা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রায় ৪ লাখ শিক্ষক-কর্মচারী পাচ্ছেন এপ্রিলের বেতন
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী এই বেতন-ভাতার আওতায় রয়েছেন। এই বিশাল জনবলকে দ্রুত অর্থ প্রেরণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় ও মাউশি জোর গতিতে কাজ করছে। পরিসংখ্যানটি নিচে তুলে ধরা হলো:
- স্কুল পর্যায়: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনস্থ স্কুলের ৩ লাখ ৭৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
- কলেজ পর্যায়: দেশের বিভিন্ন এমপিওভুক্ত কলেজের ৮৭ হাজার ৮৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী।
- চলতি অবস্থা: গত ২৮ এপ্রিল মাউশি থেকে এপ্রিল মাসের বেতনের প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রশাসনিক পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় এখন সবুজ সংকেত দিয়েছে।
ইএফটি (EFT) পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ
বর্তমান সরকার শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ইএফটি বা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (Electronic Fund Transfer) পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করেছে। এর ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন এখন সরাসরি তাদের স্ব-স্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাচ্ছে, যা মাঝপথে অর্থ আটকে থাকা বা কোনো ধরণের অনিয়মের সুযোগ চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছে।
বেতন প্রাপ্তির মূল নিয়ম ও নির্দেশনাগুলো হলো:
- অনলাইন বিল সাবমিট: প্রতিষ্ঠান প্রধানদের গত ২৪ এপ্রিলের মধ্যে অনলাইনে বিল সাবমিট করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী তথ্য যাচাই-বাছাই করে মাউশি চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করেছে।
- আইবাস (iBAS++) সিস্টেম: যাদের তথ্য আইবাস সিস্টেমে নির্ভুলভাবে আপডেট করা আছে, তারা কোনো ঝামেলা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে সরাসরি ব্যাংকে টাকা পেয়ে যাবেন। তবে কারিগরি কারণে যাদের তথ্যে ত্রুটি রয়েছে, তাদের বিষয়টি পরবর্তীতে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
- সরকারি আদেশ (GO): সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর লক্ষ্যে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় জিও (Government Order) জারি করা হয়েছে।
জরুরি নোট: কারিগরি বা সিস্টেমজনিত কোনো বড় জটিলতা না থাকলে আগামী কয়েক কার্যদিবসের মধ্যেই শিক্ষকরা তাদের অ্যাকাউন্টে এপ্রিল মাসের এমপিওর অর্থ পেয়ে যাবেন। এ সংক্রান্ত চেক ছাড়ের নোটিশ ও অফিসিয়াল মেমো দেখতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (অফিসিয়াল ওয়েবসাইট)-এ নজর রাখুন।
শিক্ষক সংগঠনগুলোর প্রতিক্রিয়া ও স্থায়ী সমাধানের দাবি
মন্ত্রণালয়ের এই দ্রুত অনুমোদনকে শিক্ষক সংগঠনগুলো সাধুবাদ জানিয়েছে। তবে অনেক শিক্ষক নেতা দাবি করেছেন যে, মাসের ১০ তারিখ পার হয়ে যাওয়ায় শিক্ষকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে মাসের শুরুতেই বেতন পাওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।
তাই ভবিষ্যতে প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে এমপিওর চেক ও বেতন ছাড় করার স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো দাবি তুলেছেন তারা। মন্ত্রণালয়ও শিক্ষকদের এই দাবিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং শিক্ষা বাজেট ২০২৬-২৭ এ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: এপ্রিল মাসের বেতনের টাকা কবে নাগাদ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তোলা যাবে?
উত্তর: শিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদনের পর চলতি সপ্তাহের মধ্যেই অর্থ ছাড়ের কাজ শেষ হবে। সাধারণত ব্যাংকগুলোতে চেক পাঠানোর পর (নির্ধারিত তারিখ)-এর মধ্যে শিক্ষকরা তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারবেন।
প্রশ্ন ২: যেসব শিক্ষকের আইবাস (iBAS++) তথ্যে ভুল আছে তারা কী করবেন?
উত্তর: যাদের তথ্যে ত্রুটি বা গরমিল রয়েছে, তাদের এপ্রিলের বেতন সাময়িক আটকে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে দ্রুত প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে উপজেলা বা জেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করে তথ্য সংশোধন করে নিতে হবে।
উপসংহার ও শেষ কথা
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশাল অংশ পরিচালনা করেন। তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মানেই হলো শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখা। এপ্রিল মাসের বেতন অনুমোদনের এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োচিত, যা দেশের লাখ লাখ শিক্ষক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে।
প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত বেতন ছাড় করায় শিক্ষকরা এখন ক্লাসরুমে আরও নিবিড়ভাবে মনোনিবেশ করতে পারবেন। আমরা আশা করি, চেক ছাড়ের চূড়ান্ত নোটিশটি খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে। মেধা ও শ্রমের সঠিক মূল্যায়নই পারে একটি সুন্দর ও শিক্ষিত সমাজ উপহার দিতে। শিক্ষকদের নায্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ করাই হোক প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

