ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক তসলিমা বানু: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি ও প্রশাসনিক রদবদল
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে এক বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (Examination Controller of Dhaka Education Board) পদে নিযুক্ত হয়েছেন অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানু। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে তিনি এই শিক্ষা বোর্ডেরই উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (Deputy Examination Controller) পদে বদলির আদেশাধীন ছিলেন। দেশের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান ও আগামী দিনের সকল পাবলিক পরীক্ষা, ফলাফল ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে এই নতুন নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে চলতি শিক্ষাবর্ষের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগের পটভূমি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরিবর্তন
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারকে পদোন্নতি দিয়ে একই বোর্ডের সচিব পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তার স্থলাভিষিক্ত করতেই অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুকে এই গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পদের দায়িত্ব দেওয়া হলো। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তার মূল চ্যালেঞ্জ হবে দেশের বৃহত্তম এই বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষাগুলোর খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত ও ডিজিটাল করা। শিক্ষা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বোর্ডের কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমাতেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অধীনে পরীক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত গোপনীয় কাজ ও ফলাফল প্রক্রিয়াকরণে আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যভার গ্রহণ ও বোর্ড সভার গুরুত্বপূর্ণ তারিখসমূহ
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপন এবং ঢাকা বোর্ডের খসড়া কার্যসূচি অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোর সম্ভাব্য রুটিন ও তারিখ নিচে তুলে ধরা হলো:
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ: গত ১৮ মে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগের আদেশ জারি করা হয়।
- নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যভার গ্রহণ: আগামী (নির্ধারিত তারিখ)-এর মধ্যে অধ্যাপক তসলিমা বানু তার নতুন পদে যোগ দেবেন।
- বোর্ড কর্মকর্তাদের প্রথম সমন্বয় সভা: দায়িত্ব নেওয়ার পর আগামী (নির্ধারিত তারিখ)-এর মধ্যে সব শাখার উপ-নিয়ন্ত্রকদের নিয়ে তিনি একটি জরুরি সভা করবেন।
- চলমান পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনার তারিখ: (বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী) আগামী মাসের শুরুর দিকে চলমান পাবলিক পরীক্ষাগুলোর খাতা মূল্যায়ন ও ফলাফল প্রকাশের রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু হবে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের সঠিক ও ডিজিটাল পদ্ধতি
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সনদ, নম্বরপত্র ও পরীক্ষার যেকোনো ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিচে উল্লেখিত ধাপগুলো ধাপে ধাপে অনুসরণ করে সেবা নিতে হবে:
- অনলাইন পোর্টালে লগইন: নাম, বয়স বা নম্বরপত্র (Transcript) সংশোধনের জন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে ঢাকা বোর্ডের নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নিজের রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
- সঠিক অপশন নির্বাচন: ড্যাশবোর্ডে গিয়ে ‘পরীক্ষা সংক্রান্ত আবেদন’ (Exam Related Application) অপশনটি সিলেক্ট করে নির্দিষ্ট ফরমটি পূরণ করতে হবে।
- ফি প্রদান ও নথিপত্র আপলোড: প্রয়োজনীয় ফি সোনালী স্লিপ বা অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জমা দিয়ে রসিদ ও মূল নথিপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
- ট্র্যাকিং ও সেবা গ্রহণ: আবেদন সফলভাবে সাবমিট হলে একটি ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়া যাবে, যা দিয়ে ঘরে বসেই আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা (অফিসিয়াল ওয়েবসাইট) জানা যাবে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত সংশোধনের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
শিক্ষার্থীদের যেকোনো পরীক্ষার সার্টিফিকেট, মার্কশিট বা প্রবেশপত্রের ভুল সংশোধনের জন্য যে সকল কাগজপত্র রেডি রাখতে হবে:
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ফরওয়ার্ডিং: সংশ্লিষ্ট স্কুল বা কলেজের প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের অফিশিয়াল প্যাডে স্বাক্ষর ও সিল সংবলিত সুপারিশপত্র বা ফরওয়ার্ডিং লেটার।
- মূল প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড: শিক্ষার্থীর মূল প্রবেশপত্র (Admit Card) এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ডের স্পষ্ট স্ক্যান কপি।
- অনলাইন ফি জমার রসিদ: সোনালী ব্যাংকের ই-সেবা বা অন্যান্য অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত ফি জমার মূল রসিদ (বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী)।
- অভিভাবকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও হলফনামা: বিশেষ ক্ষেত্রে নাম বা বয়স বড় ধরনের সংশোধনের জন্য প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের এফিডেভিট বা হলফনামা।
বোর্ডের পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার ফি ও লেনদেনের তথ্য
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন একাডেমিক কাগজপত্রের ফি কাঠামো এবং আর্থিক নিয়মনীতি নিচে তুলে ধরা হলো:
- নম্বরপত্র ও মূল সনদ উত্তোলন ফি: হারিয়ে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া মূল সনদ বা নম্বরপত্রের ডুপ্লিকেট কপির জন্য নির্ধারিত সরকারি ফি (বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী) অনলাইন গেটওয়েতে জমা দিতে হবে।
- নাম ও বয়স সংশোধন ফি: প্রতি পরীক্ষার কাগজপত্রে নাম বা বয়স সংশোধনের জন্য আলাদা আলাদা ফি বোর্ড নির্ধারিত ব্যাংক হিসাব ছাড়া অন্য কোথাও লেনদেন করা যাবে না।
- দালাল চক্র থেকে সাবধান: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক-এর কার্যালয় থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, কোনো প্রকার অতিরিক্ত টাকা বা নগদ লেনদেন বোর্ডের আইন পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বোর্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারিরকৃত জরুরি নির্দেশনা
প্রশাসনিক এই রদবদলের সাথে সাথে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কঠোর গাইডলাইন ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বিশেষ সতর্কবার্তা: পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ানো বা খাতা মূল্যায়নে অবহেলা করা হলে জিরো টলারেন্স (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করা হবে। কোনো শিক্ষক যদি খাতা মূল্যায়নে ভুল করেন বা নির্ধারিত সময়ে নম্বর বোর্ডে না পাঠান, তবে তার এমপিও (MPO) বাতিলের সুপারিশ করা হবে।
- দালালদের প্রবেশ নিষিদ্ধ: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ শাখা এবং এর আশেপাশের এলাকায় বহিরাগত দালালের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- ডিজিটাল ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক: সমস্ত ফাইল বা আবেদন যেন ৩ থেকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়, তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
প্রশ্ন ১: ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়োগের ফলে কি সার্টিফিকেট বা নম্বরপত্র সংশোধনের নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসবে?
উত্তর: না, মূল আইনি নিয়মে কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে প্রশাসনিক গতিশীলতার কারণে এখন থেকে আবেদনসমূহ অনেক দ্রুত ও স্বল্প সময়ের মধ্যে (অফিসিয়াল ওয়েবসাইট) নিষ্পত্তি হবে।
প্রশ্ন ২: নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অধীনে আসন্ন পাবলিক পরীক্ষাগুলোর রুটিন কি পরিবর্তন হতে পারে?
উত্তর: না, পূর্ব নির্ধারিত বাৎসরিক শিক্ষা পঞ্জিকা এবং প্রজ্ঞাপন অনুযায়ীই সকল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যেকোনো জরুরি পরিবর্তন কেবল মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে (বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী) অফিশিয়াল পোর্টালে প্রকাশ করা হবে।
উপসংহার
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ একটি স্পর্শকাতর ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। অধ্যাপক জেসমিন তাসলিমা বানুর মতো অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে দায়িত্ব দেওয়া শিক্ষা প্রশাসনের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। আশা করা যাচ্ছে, তার দূরদর্শী নেতৃত্বে ঢাকা বোর্ডের সকল পাবলিক পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও সহজতর হবে। যে সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন বোর্ডে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তারা আর দেরি না করে অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের আবেদনের বর্তমান অবস্থা চেক করে নিন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পূর্ণাঙ্গ কার্যতালিকা, বিভিন্ন পরীক্ষার সংশোধিত রুটিন এবং জরুরি বিজ্ঞপ্তি সরাসরি দেখতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার অফিশিয়াল (অফিসিয়াল ওয়েবসাইট) পোর্টালে নিয়মিত চোখ রাখুন।

